তুমি তে পরিপূর্ণ

 ফাতেহার বিয়ে আজ। বউ সেজে এসেছে বসে আছে। সবার প্রচণ্ড ব্যস্ততা। বিয়েতে যাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শুধু সেটা ঠিক ভাবে করার সম্পূর্ণ চেষ্টা করে চলছে।…………বাংলা রোমান্টিক গল্প………

ফাতেহার বাবা সবাইকে আগে থেকে বলে দিয়েছে যাতে কোনো রকম কোনো ত্রুটি না হয়। তাই ফাতেহার সব ভাইবোনেরা, ফ্রেন্ডরা মিলে সব কিছু ঠিকঠাক মত আছে কি না বারবার দেখে নিচ্ছে। বিয়ে বাড়ি বলে কথা, চারদিকে প্রচণ্ড আওয়াজ। কেউ ঠিকমত কারো কথা শুনছে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত একদম কানের কাছে গিয়ে বলা হয়।

ফাতেহার কয়েকবার তার ফ্রেন্ডদের কে ডাকলো। তারা একেকজন একেক কাজে ব্যস্ত। তাই আর শোনেনি ।এরপর আর কী করার সে তো বউ সেজে বসে আছে। উঠে গিয়ে ও কাউকে ডাক দিতে পারবে না তাই একা একাই অনেক কিছু ভাবছে। যে মানুষটা কে বিয়ে করতে যাচ্ছে সে তার বাবার পছন্দের। আগে থেকে তেমন একটা চেনা জানা নাই দুজনের। বিয়ে ঠিক হওয়ার কিছুদিন আগে থেকে অল্পস্বল্প কথা হয়েছিল এতটুকু। তাই বারবার চিন্তা হচ্ছে মানুষটা কেমন হবে?

একটা অচেনা মানুষের সাথে সারা জীবন কাটাবে সেই মানুষটার মনের মত যদি সে না হয় বা সে মানুষটা ও যদি তার মনের মত না হয় তাহলে তো অনেক কাঠ খড় পোহাতে হবে। তবে ফাতেহার বারবার মনে হচ্ছে তার বাবা যেহেতু পছন্দ করেছে নিশ্চয়ই তিনি ফাতেহার জন্য ভালো কিছুই করেছেন।

কোন বাবা মা তার সন্তানের খারাপ চাই না। আর ফাতেহা তার বাবার অনেক আদরের সন্তান। ভাই বোন সবার ছোট সে। তাই ছোটকাল থেকে আদার ও বেশিই পেয়ে আসছে। বসে বসে এসব ভাবছে। এর মধ্যে শুনতে পেল সবাই বলতে শুরু করল বর চলে এসেছে। তার ভাবনা শেষ হলো একটু নড়েচড়ে বসলো।

ফাতেহার বরের নাম সাবিত। দেখতে নিতান্ত ভালো মানুষ মনে হয়। অনেকটা বোকাসোকা টাইপের। এককথায় সহজ-সরল। ফ্রেন্ড কাজিন আত্মীয়-স্বজন সবাই আসলো , ছবি তুললো , গল্প করলো অনেক মজা করলো। ফাতিহা এবং সাবিতের বিয়ে সম্পন্ন হল।

বিদায় বেলা সত্যি প্রত্যেকটা মেয়ের জন্য খুব বেশি কষ্টের। ফাতিহার ক্ষেত্রে ও ব্যতিক্রম ঘটেনি। সে তার বাবার খুব বেশি আদরের ছিল বাবাকে ধরে অসম্ভব কেঁদেছিল, তার বাবা যতই নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুক না কেন তিনিও সেদিন হার মেনে গিয়েছিল। বাবা মেয়ের এই দৃশ্যটা পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টকর মুহূর্তের একটি।

ফাতেহা কে নিয়ে আসা হলো সাবিতের বাসায়। ফাতেহা রুমে বসে আছে কিছুক্ষণ পরেই সাবিত আসলো। রুমটি বেশ সুন্দর এবং পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে। জীবনের প্রথম রাতে দুজন দুজনের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো যতই প্রতিকূলতা আসুক না কেন তারা কেউ কাউকে কখনো ছেড়ে যাবে না। এটি তো সবাই করে ,কিন্তু কতজনে বা মেনে চলতে পারে। সবাই যদি মেনে চলতে পারতো প্রথম দিনের মতো একজন অন্যজনকে দেয়া কথা তাহলে নিশ্চয়ই চারদিকে এত বিচ্ছেদ, পরকীয়া , এত জঘন্য নোংরামি আমরা দেখতাম না। আমাদের সমাজটা আরো সুন্দর হতো।

অনেক ভালই দিন যাচ্ছে ফাতেহা এবং সাবিতের। দু’জন একদম দু’জনের মনের মত কিছু অমিল অবশ্যই আছে কিন্তু তারা যথেষ্ট মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একজন আরেকজনকে প্রচন্ড রকম ভাবে ভালবাসে। জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা ক্ষণ প্রতিটা সময় তারা উপভোগ করছে। শুধুমাত্র ভালবাসা থাকার কারণে।

একজন অচেনা মানুষ কে বিবাহের মত পবিত্র বন্ধন এর মাধ্যমে আপ্রাণ ভালোবাসা যায় সারা জীবন ধরে। অনেক ঘোরাঘুরি, আনন্দ, অভিমান ,খুনসুটির মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্ক যাচ্ছিল । ভালোবাসার সব রঙ রূপ যেন তাদের মাঝেই ধরা দিয়েছে।

বিয়ের প্রায় তিন বছর হতে চলল। আত্মীয়-স্বজন আশেপাশের মানুষ বলা শুরু করল বাচ্চা হয় না কেন? সবার এসব শুনতে শুনতে তারা অতিষ্ঠ। কিন্তু তাদের নিজেদের এসব নিয়ে তেমন একটা আক্ষেপ ছিল না তখনো। দুইজন দুইজনকে নিয়েই তো ব্যস্ত।

সবার কথাই অবশেষে একটা ডাক্তারের কাছে গেল। তাদের দুজনকে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিল ডাক্তার। যেদিন ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখাবে সেদিন তাদের দুজনের মনেই অজানা ভয় কাজ করছিল। ডাক্তার যা বলল তা কখনোই আশা করেনি। ” ফাতেহা কখনো মা হতে পারবেনা ”!!!

সেদিন পুরোটা রাস্তা ফাতেহা কাঁদতে কাঁদতে আসছিল। সাবিত বারবার তাকে আশ্বস্ত করছে, সে যাই হোক না কেন আমি তো আছি তোমার পাশে আর এত চিন্তা কিসের। সৃষ্টিকর্তা চাইলে শত অসম্ভব কাজ নিমিষেই সম্ভব করে দেন। এরকম হাজারো ঘটনা আছে ডাক্তার রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা ছেড়ে দেয় সে রোগী ও সুস্থভাবে বেঁচে ওঠে। সাবিত যতই তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করুক না ফাতেহা অঝোরে কান্না করে যাচ্ছে।

ফাতেহার নিজেকে খুব বেশি তুচ্ছ মনে হচ্ছে। একদম ফেলান বস্তুর মত লাগছে। ফাতেহা জানে সাবিত তাকে ছেড়ে যাবে না কখনো সন্তানের জন্য, কিন্তু নিজের কাছে নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে। আর সমাজ?? এই মুখ কিভাবে দেখাবে?

প্রতিমহুর্তে অপয়া, অভাগিনী শুনতে হবে। শোনাও হয়তো স্বাভাবিক। এর পরেও তারা বারবার অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু সব ডাক্তারের রিপোর্ট একই। সবার একটাই কথা যদি সৃষ্টিকর্তা চাই তো হবে না হয় আমরা কোন আশা দেখতে পাচ্ছি না।

কি আর করার? ফাতিহা ও আশা ছেড়ে দিয়েছে। সাবিত সেই শুরু থেকে তাকে আশ্বাস দিয়ে আসছে। মা হতে না পারার কষ্টটা প্রতিনিয়ত ফাতিহাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। এইদিকে এইসব শোনার পর তো সমাজের মানুষ ফাতিহা কে নিয়ে রসিয়ে রসিয়ে সমালোচনা বা তার সামনে তাকে সান্তনা মূলক বাণী শোনানোর মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত অপমান করে চলছে ।

ফাতিহা এসব আর নিতে পারছে না। নিজেকে শেষ করে দিতে খুব ইচ্ছে হয়। কিন্তু তখনই তার ভালবাসার মানুষটার কথা তার বাবার কথা মনে হয়ে যায়। মুহূর্তেই এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেয়।

কিন্তু সমাজ? সমাজ তার কষ্টটা বোঝে না উল্টো আরো দিনকে দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফাতিহা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে রাতে ঘুমায় না। সারারাত একটি সন্তানের আশায় জায়নামাজে বসে থাকে। সাবিত খেয়াল করলো ফাতেহা অনেক অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না ,অনেক বেশি চিন্তা, হতাশা তাকে গ্রাস করে ফেলেছে। এসব দেখে সাবিত একদিন ফাতেহার কাছে দুই হাত জোড় করে খুব বেশি কান্নাকাটি করছিল যাতে ফাতেহা নিজেকে শক্ত রাখে।

সাবিতের বাচ্চার প্রয়োজন নেই কিন্তু ফাতিহাকে প্রয়োজন শেষ নিঃশ্বাস অবধি। কে কি বলল তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে তো আমাদের লাভ নেই আমরা আমাদের মত সুখী থাকতে পারলেই তো হলো। ফাতেহার কিছু হয়ে গেলে সে নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে না ।

এই সবকিছুই বুঝিয়েছে ফাতেহাকে। সাবিত পাগলের মত কান্না করছে। যাতে ফাতিহা নিজের খেয়াল রাখে এবং ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে। ফাতেহাকে অনেক বছর বেঁচে থাকতে হবে শুধুমাত্র সাবিতের জন্য। সাবিতের পাগলামো ভালোবাসা দেখে ফাতেহা সিদ্ধান্ত নিল লোক সমাজের কথায় কর্ণপাত না করে সে তার ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে সুখে থাকবে , তার ভালোবাসার মানুষটাকে সুখে রাখবে। যে মানুষটা তাকে ছাড়া আর কিছু চাই না সে মানুষটা কে ছেড়ে যাওয়ার কথা তো চিন্তা করাও পাপ।

মা হতে না পারার অব্যক্ত কষ্ট সে তো মনে থেকেই যাবে। সাবিতের ও নিশ্চয় ইচ্ছে ছিল বাবা ডাক সোনার। কিন্তু সেই ইচ্ছাটা তার ভালবাসার মানুষটার সামনে মুখ থুবরে পড়ে থাকার মতই। তাই ফাতিহা তাকে নিয়ে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই।

এইসব মেনে নিয়েই কয়েকটা বছর কেটে গেল। আগের তুলনায় মোটামুটি ভালো আছে তারা। দুজন দুজনের প্রতি ভালোবাসা দেখে সমাজও আর তাদের দিকে আঙ্গুল তুলেনি। হঠাৎ ফাতেহা একদিন খেয়াল করল তার শরীর ফুলে যাচ্ছে। সাবিত ও বিষয়টা লক্ষ করছে। দিন দিন আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে ফাতেহা। তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। ডক্টর কিছু ওষুধ দিলে। কিন্তু তাও ফাতেহার শরীর ঠিক হলো না দিন দিন সে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

আবার ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়। ডাক্তার সিরাম ক্রিয়েটিনি, Blood Urea Nitrogen এবং eGFR পরীক্ষা করে। এরপর রিপোর্ট দেখে যা বললো তা কল্পনাতীত । ফাতেহার কিডনি ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার কিছু ওষুধ দেয় আর সব নিয়ম মেনে চলতে বলে। সাবিতকে ডেকে ডাক্তার এসব বলেছে, সাবিতের মনে হলো তার পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। কিচ্ছু শোনায়নি সাবিত ফাতেহাকে কারণ সবকিছু শুনলে একেবারে ভেঙ্গে পড়বে।

কাউকে কিছু শোনায়নি । সাবিতের মনে অজানা ভয় কাজ করতে থাকে সবসময়। যেখানেই যায় খুব তাড়াতাড়ি ফিরতে চায় বাসায়। খুব বেশি খেয়াল রাখে ফাতেহার। এভাবেই চলে কয়েকদিন পরপর ডাক্তার কাছে নিয়ে ফাতিহাকে চেকআপ করে আনে। প্রায় কয়েক মাস পর ডাক্তার বললো তার অবস্থার কিছু উন্নতি হচ্ছে না। দিনদিন দুটো কিডনি ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে। এবার সাবিত ফাতেহার মা-বাবাকে জানালো বিষয়টি। তারা শুনে কান্নাকাটি করে একাকার।

ফাতেহার বাবা আল্লাহর কাছে হাজার হাজার লাখো কোটি শুকরিয়া জানাই তার মেয়ের জামাই এতো ভালো। এতকিছুর পরও সেই আগের মতোই তার মেয়ের খেয়াল রাখে। ফাতেহার বাবা-মা আসলো তাদের বাসায়। আস্তে আস্তে বিষয়টি ফাতেহা ও জেনে গেল। এরপর থেকে ফাতেহা কে কয়েক মাস পর পর ডায়ালাইসিস করানো হয়। যা অনেকটাই ব্যয় সাপেক্ষ। তারা এত বেশি বড়লোক ছিলনা কিন্তু ভালোবাসা ছিল অফুরন্ত। সাবিত চিন্তা করল সে কি করবে এত টাকা কোথা থেকে পাবে।

ফাতেহা প্রচুর কাঁদতো এসব শোনার পর । তাকে এই বলে সান্তনা দেয় সাবিত, আমি আছি তো তোমার পাশে ভয় কিসের আমি যতদিন আছি তোমাকে মরতে দিব না। বিশ্বাস হয়না এসব ফাতেহার সে বুঝে কিছুদিন পর সে মারা যাবে। এখন আর বাচ্চার জন্য আফসোস হয়না ভালোবাসার মানুষটাকে একা রেখে চলে যাবে এটা ভেবে কষ্ট হয় বেশি।

দিন অতিবাহিত হচ্ছে ফাতেহার সমস্যা ও আরো গুরুতর হচ্ছে। সাবিত প্রায় দিশেহারা। যেভাবে হোক ফাতেহাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই ডাক্তারের কাছে গিয়ে একটা স্থায়ী সমাধান চাইল। ডাক্তার বলল কিডনি প্রতিস্থাপন করা একমাত্র স্থায়ী সমাধান। তখন সাবিত ডাক্তারকে বললো , আচ্ছা তাহলে আমার একটি কিডনি নিয়ে আমার স্ত্রীকে বাঁচান। চোখের সামনে ওর কষ্ট সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

ডাক্তার বলল আপনি কেন দিবেন আপনার তো বয়স কম এখন। আমরা কেউ জানিনা কার মৃত্যু কখন হয় কিন্তু আপনার জীবনের পুরোটা সময় তো পড়ে রয়েছে। সাবিত ডক্টরকে বলল না আমার জীবনের পুরোটা সময় পড়ে রয়েছে আমিও জানি কিন্তু সেই সময় টা আমি আমার স্ত্রীকে ছাড়া কাটাতে পারব না। আমার তাকে চায় শেষ নিশ্বাস অব্দি। আপনি প্লিজ না করবেন না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আল্লাহর রহমতে যদি আমার সাথে সবকিছু মিলে যায় তাহলে আমি ওকে কিডনি দিব। আমার শরীরে অংশ দিয়ে আমি তাকে বাঁচিয়ে রাখবো।

সাবিত যেভাবে ধরলো ডাক্তার আর না করতে পারলো না। ডাক্তার ও ভাবছে এতটাও ভালোবাসা যায়? নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভালোবাসার মানুষটাকে বাঁচিয়ে রাখার কি অদম্য ইচ্ছা তার। তাই ডাক্তার বললো, ওকে ঠিক আছে যদি সবকিছু মিলে তো আমরা আপনার থেকে একটি কিডনি নিয়ে আপনার স্ত্রী কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। এরপর ডাক্তার রক্ত, টিস্যু পরীক্ষা করে দেখলো সাবিতের সাথে ফাতেহার সবকিছুই আশ্চর্যজনকভাবে মিলে গেল। তাই সাবিত ফাতেহাকে কিডনি দিতে পারবে বলে জানিয়ে দিল।

সাবিত বাসায় বললো কিন্তু কেউ রাজি হচ্ছিল না। এটা মানতে পারছে না ফাতেহা ও সে কখনোই তাতে রাজি নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় সাবিত জানালো সে কিডনি দিবেনা। সে একজন ডোনার পেয়েছে। সেই লোকটি ফাতিহাকে কিডনি দিবে। ফাতেহাকে অপারেশন থিয়েটার নেয়া হলো। সবার চোখের আড়াল হয়ে সাবিত ও অপারেশন থিয়েটারে গেল। ফাতেহার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে তাই সবাই যে যার মত চিন্তায় মগ্ন ছিল এবং আল্লাহর কাছে বারবার প্রার্থনা করছে। যাতে অপারেশন সফল ভাবে সম্পন্ন হয় এবং ফাতেহা তাদের কাছে ফিরে আসে। তাই এই সময়টাতে সাবিতের অনুপস্থিতি কেউ টের পেল না।

সবার মনে অজানা ভয় আশঙ্কা আবার স্বস্তিও। আল্লাহর অশেষ রহমতে সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হলো এবং দুজনেই সুস্থ আছে। অপারেশনের পর জানাজানি হয়ে গেল সাবিত কিডনি দিয়েছে। সাবিতের পরিবার মেনে নিতে পারছে না। তারা লোক সম্মুখে প্রকাশ করছে ও না কিন্তু তাদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা খুব বেশি হতাশায় ভুগছে। ফাতেহা মোটামুটি সুস্থ একটা জীবন যাপন করতে পারছে।

দুজনকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। নিজেদের যত্ন নিতে হয়। দু’জনের ই একটু বেশি সতর্ক থাকা লাগে। সাবিত-ফাতিহা এখন সবার কাছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এই দুইজনকে দেখলে আলাদা করে ভালোবাসার সংজ্ঞা জানতে ইচ্ছে হয় না । আমরা কিছু করার আগে বলে বেড়াই সেখানে সাবিত নিজের শরীরের অংশ দিয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কতটা ভালোবাসলে এমন কাজ করা যায় তা সাবিতের ও জানা নেই। সাবিত অদ্ভুত এক মায়ায় পড়েছে ফাতেহার যাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারে না।

সাবিত-ফাতেহা মিলে একটি Child Care গড়ে তুলেছে। পঞ্চাশ জন অনাথ শিশু তাদের ভালোবাসায় বেড়ে উঠছে। ছোট্ট ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুগুলো যখন মা বাবা বলে জড়িয়ে ধরে ফাতেহা সাবিতকে তাদের মনেই হয় না তাদের সন্তান নেই । প্রত্যেকটা সন্তানকে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করতেছে তারা। একজন অপূর্ণ মানুষকে ভালোবাসার ছায়া দিয়ে আগলে রাখতে পারলে অপূর্ণতা বলে কিছু থাকতো না। ভালোবাসার মানুষটির ভরসার কাঁধ থাকলে হাজারো অপূর্ণতা অর্থহীন।





Comments