শেষ ইচ্ছে
গ্রীস্মের ছুটি তে বৃষ্টি নানাবাড়িতে এল। প্রায় সব কাজিনরা এসেছে। যে কোন ছুটিতে তারা সব কাজিনরা নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। খুব মজা হয়। সবাই একসাথে গল্প করা, আড্ডা দেওয়া, ঘোরাঘুরি মারামারি সবই হয়। অসম্ভব সুন্দর কাটে তাদের স্কুল কলেজ বন্ধের দিনগুলি।
সারাদিন বাইরে প্রচুর ঘোরাঘুরি করে রাত হলে প্রতিদিন নিয়ম করে গানের কলি খেলে। সবার চেয়ে বৃষ্টির গানের গলাটা একটু বেশি সুন্দর। তাই গানের কলি ছাড়াও বৃষ্টি প্রতিদিন সবাইকে গান গেয়ে শোনাই।
বৃষ্টির ছোটমামা তাকে প্রায়ই আদর করে বউ বলে ডাকে। বৃষ্টি ছোট থাকতে তার মামা তার মাকে বলে রেখেছিল বৃষ্টির সাথে তার ছেলের বিয়ে দিবে। তাই ছোট থেকে বউ ডাকা।
ছোটবেলায় কিছু না বুঝলেও এখন কিছুটা লজ্জা লাগে। তাই সচরাচর তেমন একটা ছোট মামার সামনে যায় না। ছোট মামার ছেলের নাম নাহিদ। সব কাজিনদের মত নাহিদের সাথে ও ভালো সম্পর্ক বৃষ্টির।
মুরুব্বিদের এসব কথা নিয়ে তারা তেমন একটা মাথা ঘামায় না নিজেদের মতই চলে। প্রায় সব কাজিনদের সাথে যেমন সম্পর্ক নাহিদের সাথে ও তেমন সম্পর্ক বৃষ্টির। এর বেশি কিছু তারা চিন্তাও করে না।
কিন্তু যতদিন গড়াচ্ছে বৃষ্টি বড় হচ্ছে ছোট মামা যেন বৃষ্টিকে বউ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। বৃষ্টি তার মাকে জানিয়ে দিয়েছে সে নাহিদ ভাইয়াকে ভাইয়ের মতো জানে তার সাথে বিয়ে সম্ভব না। বৃষ্টির না চাইলে মা ও তেমন একটা জোরাজুরি করবে না তা জানা আছে বৃষ্টির।
ছুটির শেষ দিন প্রায় সব কাজিনদের মন খারাপ থাকে। মনে হয় আর কিছুদিন সময় ছুটি থাকতো। আসলে আরো অনেক দিন ছুটি থাকলে ও কাজিনদের সাথে মিলেমিশে মজা করার সময় গুলো কখনোই ফুরাবে না।
..
যেদিন সবাই বাড়ি থেকে বিদায় নেবে সবার চেহারায় কষ্টের ছাপ। কিন্তু কি আর করার সবাই সবাইকে বিদায় জানিয়েছে যে যার শহরে চলে আসে। এরপর সবাই নিজেদের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মাঝে মাঝে খোঁজ খবর নেয়া হয়। এবার বৃষ্টি আসার পর তার মামা তার মাকে ফোন করে জানিয়ে দেয় তারা বৃষ্টির সাথে নাহিদের বিয়ের কথা ঠিক করার জন্য বৃষ্টিদের বাসায় আসবে। কিন্তু বৃষ্টি মাকে কড়াকড়িভাবে নিষেধ করে দিয়েছে তাই তার মা উনাদের আরো পরে আসতে বলেন। বৃষ্টির মামা কিছুটা মন খারাপ করে। তিনি বললেন আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আরো দুই মাস পরে যাব। বৃষ্টির আম্মু আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিলো।
বৃষ্টিকে এসব নিয়ে কিছু বলেনি। জানে এটা শুনলে বৃষ্টি হয়তো আরও রেগে যাবে। তিনিও বা ভাই কে কিভাবে একেবারে মানা করে দিবেন? তাই দোটানায় পড়ে আছেন। বৃষ্টিকে এটাও বোঝানো যায় না তারা আসুক কথা বলে আমরা না হয় পরে না করে দিব কিন্তু তারা আসুক।
বৃষ্টি একদমই রাজী না। প্রায় আড়াই মাস পরে বৃষ্টির ছোটমামা তাদের কে না জানিয়ে বাসায় চলে আসো। মামা মামী আর নাহিদ ভাই এসেছে। মিষ্টি বুঝতে পারছে না নাহিদ ভাইয়া কেন এসেছে?
তাহলে কি নাহিদ ভাই ও বিয়েতে রাজি?
নাকি তাকে জোর করে আনা হয়েছে। ইচ্ছে করছে নাহিদ ভাইকে একবার ডেকে জিজ্ঞেস করতে সব। পরক্ষণেই কেমন যেন একটু সংকোচ কাজ করতে লাগলো। তাই আর মামা মামির সামনেও যায়নি রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বৃষ্টি একা বসে আছে।
বৃষ্টির মা অনেক বার ডেকেছে খাওয়ার জন্য কিন্তু সে দরজা খুলে না। প্রায় ৩/৪ ঘন্টা পর দরজা খুললো। খাবার নিয়ে আবার রুমে ঢুকে গেল। বাসাটাই এখন নিজের কাছে অসহ্য মনে হচ্ছে। ইচ্ছে করছে মামাকে গিয়ে একেবারে না করে দিয়ে আসি কিন্তু মা রাগ করবে তাই কিছু বলতে পারছে না। চুপচাপ দরজা আটকে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
মামা মামি কিছুটা বুঝতে পারছেন বৃষ্টি হইত তাদের উপর রাগ। তারা এসেছে এতক্ষণ হয়েছে এখনো বৃষ্টি তাদের সামনে আসেনি।
বৃষ্টির মাকে জিজ্ঞেস করলে তার মা বলে হয়তো রুমে ঘুমাচ্ছে। চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি মিথ্যা বলছে। এখন কেন যেন বৃষ্টির মামার মনে হচ্ছে এভাবে আসা উচিত হয়নি। বৃষ্টি কে জানিয়ে বৃষ্টির মতামত নিয়ে আসার দরকার ছিল।
মায়ের অনেক জোরাজুরির পর বৃষ্টি তাদের সাথে দেখা করে আসলো। নাহিদ ভাইয়া ও তার সাথে কথা বলছে না। আজ নাহিদ ভাইয়া কে ও কেমন যেন লাগছে।
বৃষ্টি মামা মামির সাথে একটু কথা বলে রুমে চলে আসে। এর পরের দিন বৃষ্টির মা আর তার মামা মামি একটা কাজে বের হলো। বাসায় নাহিদ বৃষ্টি আর কাজের বুয়া।
নাহিদ ভাইয়া এখন বৃষ্টির সাথে কথা বলছে সব আগের মত স্বাভাবিক মনে হচ্ছে বৃষ্টির। কালকের কিছুই দেখছেনা নাহিদ ভাইয়ার মধ্যে। তারা একসাথে বসে গল্প করে। এরপর বৃষ্টিকে কিছু পড়া ও দেখিয়ে দিয়েছে নাহিদ।
সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টির মা ফোন করে জানালো তার ফুফু মারা গিয়েছে তাই তাদেরকে খুব তাড়াতাড়ি গ্রামে যেতে হবে। তাই তারা এক কাপড়ে বেরোয়। পরের দিনে চলে আসে তারা বাসায়।
ভাইয়ের কথাকে আর ফেরাতে পারছিলোনা আর বৃষ্টির মা। তাই অনেক কষ্ট করে বুঝিয়ে বৃষ্টিকে রাজি করিয়েছে। বৃষ্টির কথা হচ্ছে সে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার দেওয়ার পর বিয়ে করবে এখন নয়। তাই তার কথা মতই মামা শুধুমাত্র এংগেজমেন্ট করে রাখল বিয়ে পরে হবে।
এরপর থেকে প্রায় নাহিদের সাথে বৃষ্টির ফোনে কথা হত। আস্তে আস্তে দুজনের ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
কিছুদিন পরে বৃষ্টির ফাইনাল পরীক্ষা তাই তার মামা বিয়ের তারিখ ঠিক করতে আসলো। বৃষ্টির পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরে বিয়ের তারিখ ঠিক করল। বৃষ্টির পড়ালেখায় ভালো মত মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষাটা শেষ করল।
বৃষ্টি তার প্রায় সব বন্ধুবান্ধবের দাওয়াত করলো। খুব ভালোভাবেই বৃষ্টি-নাহিদের বিয়ে সম্পন্ন হলো। বৃষ্টিকে নিয়ে যাওয়া হলো শ্বশুর বাড়িতে। মামাবাড়ি এখন তার শ্বশুর বাড়ি।
তেমন কেউ নেই বাড়িতে। মামা মামি আর নাহিদ। নাহিদের বড় একজন বোন আছে তার বিয়ে হয়ে গেছে সে লন্ডন থাকে। ছোট্ট সংসার বৃষ্টির গুছিয়ে নিতে তেমন একটা কষ্ট হয়নি। আর মামাতো তাকে অনেক আদর করে। মামি ও শাশুড়ি হিসেবে অনেকটা ভালোবাসে। ভালোভাবে তাদের সংসার জীবন আগাচ্ছিলো।
স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে দুই বছর বৃষ্টির সুখে শান্তিতে কেটেছে। এরপর থেকে বৃষ্টির শাশুড়ি কেমন যেন রুক্ষ স্বভাবের হয়ে যান বৃষ্টির সাথে।
বৃষ্টি কিছুটা আঁচ করতে পারছে তার শ্বাশুড়ীর কথায় কিন্তু কেন এমন করছে তা বুঝতে পারছে না। দিন যায় শাশুড়ির সাথে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। বৃষ্টি অনেক চেষ্টা করছে তার শাশুড়ি-মায়ের সাথে সম্পর্ক ঠিকভাবে টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু উনি কেন যেন কোনভাবেই আর বৃষ্টিকে সহ্য করতে পারছে না।
বৃষ্টি সামনে আসলেই গম্ভীর হয়ে থাকেন। এতটুকু করে সীমাবদ্ধ থাকলে হয়তো হতো। কিন্তু না ,বৃষ্টি খেয়াল করল এরপর থেকে তার শাশুড়ি শ্বশুর এর কাছে অর্থাৎ বৃষ্টির মামার কাছেও বৃষ্টির নামে বদনাম করা শুরু করছে। নাহিদকে জানাবে নাকি কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না বৃষ্টি। আর কেনই বা হঠাৎ করে তা্য শ্বাশুড়ি বদলে গেল।
এরপর এমন একটা পরিস্থিতি হয়েছে যে বৃষ্টির শাশুড়ি আশেপাশের মানুষের কাছেও বৃষ্টির বদনাম করা শুরু করে দিয়েছে। এখন বৃষ্টি বুঝতে পারে আসলে সমস্যাটা হচ্ছে বিয়ের দুই বছর পরও তার বাচ্চা না হওয়া কে কেন্দ্র করে।
একদিন তো নাহিদকে ডেকে বললেন আমি কি নাতি নাতনির মুখ দেখবো না। ছেলে বিয়ে করেছে এতদিন হলো এখনো দাদি হতে পারলাম না। নাহিদ বললো ,আরে মা চিন্তা করো না হবে এত তাড়াহুড়া কিসের। বলেই বেরিয়ে আসলো।
সে বৃষ্টির কাছে এসব বলাতেই বৃষ্টির মন ভিষন খারাপ হয়ে গেল। নাহিদ বৃষ্টির মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। বৃষ্টিকে অনেক বেশি ভালোবাসে।
বিয়ে হয়েছে মাত্র দু’বছরে তো তাই বাচ্চা নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামায়নি। কিন্তু মুরুব্বিদের কাছে দুই বছর অনেক সময়। এরপর থেকে প্রায় নাহিদের মা নাহিদকে এসব বলত।
শেষে নাহিদ আর বৃষ্টি ডাক্তারের কাছে যায়। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেখে বলল বৃষ্টি বন্ধ্যা। এরপর থেকে আরো প্রবলভাবে বাড়তে থাকে বৃষ্টির উপর তার শাশুড়ির মানসিক নির্যাতন। এতদিন যেই মামা তাকে আদর করে বউ বানিয়ে এনেছে এখন সেই মামা ও কেমন যেন পাল্টে গেছে।
একজন বন্ধ্যার সাথে হয়তো এর থেকে ভালো ব্যবহার করাটা পাপ। দিন দিন মানসিক অত্যাচারের বৃষ্টি পাগল পায়। তাও নাহিদের ভালোবাসার শীতল ছায়া তার উপর আছে বলে সে এখনো বেঁচে আছে। নাহিদের মা নাহিদকে নানান কথা শোনায়। একটাই কথা নাহিদকে আবার দ্বিতীয় বিয়ে করাবে। এসব কথার জন্য উল্টো মায়ের উপর রাগ দেখায় নাহিদ।
একদিন নাহিদের মা জেদ ধরল নাহিদ যদি দ্বিতীয় বিয়ে না করে তাহলে তিনি খাওয়া-দাওয়া ওষুধ পত্র সব বন্ধ করে দিয়ে। বার্ধক্য জনিত ত্রুটি থাকায় ওষুধ না খেলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তেন। এতটাই অসুস্থ হয়েছেন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি নাহিদের হাতে হাত রেখে কথা নিয়েছেন নাহিদ দ্বিতীয় বিয়ে করবে। তাকে নাতি-নাতনির মুখ দেখাবে।
মায়ের এমন অবস্থা দেখে নাহিদ মাকে কথা দিয়ে দেয়। নাহিদের মা সুস্থ হয়ে আসার কয়েক দিন পরেই নাহিদকে দ্বিতীয় বিয়ে করায়। এই নিয়ে বৃষ্টির নাহিদের সাথে অনেক রাগ বাকবিতণ্ডা হয়েছে। কিন্তু দিন শেষে সে একজন বন্ধ্যা তাই তার কোন অধিকার নেই।
বৃষ্টির পরিবার থেকেও কেউ আর কিছু আটকাতে পারে না। বিয়ে করার পরও নতুন বউয়ের কাছে তেমন একটা যেতো না নাহিদ। সারাক্ষণ বৃষ্টির সাথে থাকতো। মায়ের মন রক্ষার্থে এক সপ্তাহে 15 দিনে এক ঘন্টার জন্য যেয়ে আবার চলে আসে।
দিন যায় মাস যায় বৃষ্টি খেয়াল করলো নাহিদ আস্তে আস্তে নতুন বউয়ের কাছে যাওয়া বাড়িয়ে দিচ্ছে। নাহিদের সাথে তার দূরত্ব বাড়তে থাকল কিন্তু কিছুই করার নাই। এমনটা হওয়াই হয়তো স্বাভাবিক।
প্রায় ছয় মাস পর বৃষ্টি কে নাহিদের বোন লন্ডন থেকে কল দিয়ে বললো ,কলির বাচ্চা হবে। নাহিদের নতুন বইয়ের নাম কলি। কথাটা শোনার পর বৃষ্টির মনে হলো তার পায়ের নিচের থেকে মাটি সরে গেল। সাথে সাথে কল কেটে দিয়েছে।
এরপর নাহিদ বাসায় আসার পর তাকে জিজ্ঞেস করল নাহিদ কিছু বলল না শুধু চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। বৃষ্টির ভেতরটা শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছুই করবে না। চুপচাপ এক পাশে শুয়ে পড়ল। নাহিদ ও বৃষ্টিকে কিছু বলেনি কিইবা বলবে তার হয়তো কিছু করার নাই।
এরপর থেকে নাহিদের সাথে বৃষ্টির দূরত্ব হয়ে গেল। দুজনে একই বাসায় একই ছাদের নিচে ঘুমায় কিন্তু আগের মতো কিছুই নাই। অপরিচিত দুজন মানুষের মতো মনে হয়। প্রায় পাঁচ মাস পর শুনতে পেল কলির বাচ্চা হয়েছে অর্থাৎ নাহিদের।
বৃষ্টি যেতে চাইল যতই হোক তার স্বামীর অংশ। কিন্তু তাকে তার শ্বাশুড়ি যেতে দিল না। নাহিদ এখন আর বৃষ্টির কাছে থাকে না। সপ্তাহে ১ দিন এরপর ১৫ দিনে ১ দিন এরপর প্রায় আসায় বন্ধ করে দিয়েছে।
নাহিদের নতুন সংসার রয়েছে এখন কি আর বৃষ্টিকে ভালো লাগে। বৃষ্টির প্রায় তিন বছরে যা দিতে পারেনি নাহিদ এর নতুন বৌ এক বছরের মধ্যেই পূর্ণ করে দিয়েছে নাহিদকে। তাই হয়তো আর বৃষ্টির কাছে আসতে ইচ্ছে করে না।
বৃষ্টি ইচ্ছে নাই আর এই সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে। ভালবাসাহীন সম্পর্কের কোনো অর্থই নেই। বৃষ্টি তার মায়ের বাসায় চলে গেল। যাওয়ার সময় শাশুড়ি ও কিছু বললো না যাওয়ার পর নাহিদ একটা বার কল দিয়ে তার খোঁজ নিলোনা। যে মানুষটা বৃষ্টি কে অসম্ভব ভালোবাসে সে মানুষ আজ তাকে ভুলে গেছে।
বৃষ্টি সিদ্ধান্ত নিল সে নাহিদকে ডিভোর্স দিবে। বৃষ্টি আসার পর নাহিদ একবারও কল দেয়নি। বৃষ্টির আস্তে আস্তে নিজেকে শক্ত করে তোলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা। প্রতিনিয়ত মনে হয় তার ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে যাচ্ছে।
উকিল দিয়ে সব কাগজপত্র রেডি করেছে। এরপর নাহিদের কাছে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়। বৃষ্টির মনে ক্ষীণ আশা ছিল নাহিদ হয়তো ফোন দিয়ে বলবে সম্পর্কটা ভেঙে না দিলে হয় না। কিন্তু তেমন কিছুই হলো না। নাহিদ হয়তো এটাই চেয়েছিল সাথেসাথেই ডিভোর্স পেপার সাইন করে দিয়েছে।
অনেক বছর পার হয়ে গেল বৃষ্টির নাহিদকে ছাড়া। প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস বলে দেয় কতটা যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছে সে। বৃষ্টির বেঁচে থাকাই এখন মৃত্যুর প্রহর গোনার জন্য।

Comments
Post a Comment