অপূর্ণতা
আমি সাগর, বটতলা এলাকায় নতুন ভাড়া বাড়ীতে এসেছি বাবা মা আর ছোট বোন নিয়ে। ……..Bangla Sad Love Story………
আমি বড়াবড়িই একা থাকি, কম কথা বলি তাই কোনদিন কোনো বন্ধুও হয়নি।
এখানকার একটি কলেজে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছি। কলেজে প্রথমদিন গিয়েই এককোনে একাএকা বসে আছি , হঠাৎ পাশে একটা মেয়ে বসল।
বসেই জিজ্ঞেস করল -আপনার নাম কি -সাগর। আমি আর কিছুই বললাম না, তারপর সে নিজে থেকেই বলল -আমার নাম নীলিমা,, কিছুক্ষণ পর – আচ্ছা আপনি কি কথা বলেন না নাকি কথা বলতে পারেন না।
আমি কিছুটা অবাক হলাম, খুব চঞ্চল একটা মেয়ে, আমি বললাম না, কম কথা বলি।
এরপর নীলিমা প্রচুর কথা বলছে আর আমি শুনছি আর উত্তর দিচ্ছি। কথায় কথায় জানতে পারলাম নীলিমা বাবা মা সহ আমাদের উপর তলায় থাকে। এরপর যে যার মত বাসায় এলাম।
বিকেলে নীলিমা আমার বাসায় আসে আর মা আর ছোট বোনের সাথে গল্পে মশগুল।
অনেকদিন পর মায়ের মুখে এত খুশি দেখে ভালো লাগল। এরপর প্রতিদিন কলেজে একসাথে যাওয়া আসা, বিকেলে ছাদে আড্ডা দেওয়া, একসাথে পড়াশুনো করা, মোটকথা আমাদের মধ্যে একটা ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।
এভাবে ২ বছর কেটে গেল। সত্যি বলতে নীলীমার প্রতি একটা ভালোলাগা শুরু হয়ে গেছে। হঠাৎ একদিন নীলিমা বলল -আমি তোকে ভালোবাসি।
আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম -এটা সম্ভব নয় নীলিমা, আমাকে ভুলে যা।
কেন সম্ভব নয়, তুই কি আমাকে পছন্দ করিস না –কারণ টা তোকে বলতে পারব না, আমাকে ভুলে যা এতে তোরই ভালো। বলেই চলে আসলাম।
আমি রুমে লাইট অফ করে বসে আছি মা এসে লাইট জালিয়ে আমার পাশে বসল। মা বলল -নীলিমা তোকে ভালবাসে, তুই কি নীলিমা কে ভালবাসিস ??
মা এটা তুমি কি বলছ, তুমি তো সব জানো, আমি কি করে ওর ক্ষতি করতে পারি ?
তাহলে ওকে সব সত্যি বলে দে আর তোর বাবা বলছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে চলেযাবে। আমার জন্য কি তোমরা শুধু পালিয়ে পালিয়ে বেড়াবে?
এ বিষয়ে কোনো কথা হবে না, তোর বাবা একটা নতুন বাসা ঠিক করেছে কয়েকদিন পর আমরা চলে যাবো, পারলে নীলিমাকে সত্যিটা বলে দিস।
মা চলে গেল। নীলিমা প্রতিদিন বাসায় আসে কিন্তু আমি রুম থেকে বের হইনা এভাবে কিছুদিন যাওয়া পর নীলিমারা ওর নানাবাড়ি গেল নানা অসুস্থ।
এরমাঝে বাসা থেকে সবকিছু নতুন বাসায় শিফট করা হল আমরা যেদিন নতুন বাসায় যাব তার আগের দিন ভাবলাম আমি সবার থেকে দুরে চলে যাবো একা কাউকে কিছু না বলে।
এরপর দুটো ছোট চিঠি লিখলাম মা আর নীলিমার জন্য।
মায়ের চিঠিটা আমার বিছানায় আর নীলিমার চিঠিটা ওদের বাসায় দরজার নিচ দিয়ে ভেতরে দিয়ে চলে এলাম।
মাকে লিখেছিলাম আমার জন্য তোমরা ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করেছ, অনেকের অনেক কথা শুনেছ এবার ছোটবোনটার দিকে নজর দাও আমি মাঝে মাঝে তোমাদের সাথে দেখা করে আসব।
আর নীলিমাকে লিখেছিলাম একটা সময় আমিও তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
নীলিমা আমি হিজরা, আমার জন্মটা এমন হয়েছে, অন্য হিজরাদের মত মেয়ে সেজে বাইরে বের হইনি তাই কেউ কোনোদিই বুঝতে পারেনি।
মা বাবারও কোনো অভিযোগ ছিলনা এটা নিয়ে কিন্তু আশেপাশের মানুষজন যখন জানতে পারতো আমি হিজরা তখন তারা বাবা মার সাথেও মিশত না।
এরজন্য বেশিরভাগ সময় আমাদের বাসা, এলাকা, শহর বদলাতে হত কিন্তু এখন আর ইচ্ছে করেনা বাবা মার দিকে তাকালে খুব যন্ত্রনা হয়।
তাই আমার মত মানুষের কাছে আমি চলে যাচ্ছি, ভালো থেকো আর আমায় ক্ষমা করে দিও।
Comments
Post a Comment