মা
১০ বছরের সংসার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলো অন্তির। যতটা কষ্টে কাঁদার কথা আজ তার চেয়ে বেশী খুশিতে হাসছে। হয়তো মনের ক্ষত লুকানোর চেষ্টা নয়তো সত্যিই বিভীষিকাময় জীবন থেকে বের হয়ে আসার আনন্দ।……
১০বছর আগে কখনোই ভাবেনি অন্তি এরকম সব পাল্টে যাবে। চেনা মানুষটি অচেনা হয়ে যাবে। জীবনের একটা সময় যাদের ছাড়া চলতে পারবো না ভাবি কয়েক বছর পর তাদের ছাড়াই ভালো থাকার বন্দোবস্ত করার জন্য উঠেপড়ে লাগি।
যে মানুষটি পাশে না থাকলে দম বন্ধ হয়ে যায় তার সাথেই কিছু বছর পার হওয়ার পর বিরক্তিকর লাগে।
আমাদের স্বভাবই কি এমন???
নাহ সবাই এমন নয়। একই মানুষকে নিয়ে এক ছাদের নিচে ৬০-৭০বছর অনায়াসে কাটিয়ে দেয় অনেকে। দিন দিন ভালোবাসা কমার বদলে নতুন করে প্রেমে পড়ে ভালোবাসে। দিনশেষে সবার সম্পর্ক তিক্ত হয় না কিছু সম্পর্ক নিত্যনতুন ভাবে রঙিন হয় একই মানুষকে নিয়ে প্রতিনিয়ত।
চারদিকে শুধু বিচ্ছেদ হয় না। ভালোবাসার জয় ও হয়। নয়তো কেউ ভালোবাসার সাহস করতো না। অন্যকে নিজের জীবনের সাথে অতপ্রোতভাবে জড়িয়ে নিতো না। ভালো থাকার আশায় সবাই ভালোবাসে।
অন্তি ও তেমন ভাবেই ভালোবেসেছে শ্রাবণকে।
ডিভোর্স এর মতো জঘন্য কিছু কখনোই কল্পনা করেনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। আজ চেনা সব অচেনা লাগছে।
একটা সময় কতটা পাগল ছিল শ্রাবণ অন্তির জন্য। অনেক কষ্ট করে অন্তির বাবাকে বিয়েতে রাজি করিয়ে নেয়।
সেদিন কাবিননামায় সাইন করার সময় যতটা উৎফুল্ল ছিল, আজ ও ডিভোর্স পেপারে সাইন করতে পেরে ততটা আনন্দিত। প্রণয়-বিচ্ছেদ তার কাছে সমান হয়ে গেল। ভালোবাসাহীন সম্পর্কে বিচ্ছেদই উত্তম সমাপ্তি।
এসব ভাবতে থাকে অন্তি। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। শক্ত ভাবে উঠে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো ।
পরকীয়ার কারণে তার সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেলো। শ্রাবণ প্রায় মেয়েদের সাথে কথা বলতো ঘুরতে যেতো। প্রথম প্রথম অন্তির থেকে লুকিয়ে করলেও পরে সব দেখিয়ে দেখিয়ে করতো। যাতে তার পথের কাঁটা অন্তি চলে যেতে বাধ্য হয়।
রাতে বাড়ি আসতো না। মেয়েদের ছবি দিয়ে গ্যালারি ভর্তি। সব কিছু দেখেও অন্তি চেয়েছে শ্রাবণ নিজের ভুল বুঝুক। সম্পর্কটা ঠিক হয়ে যাক।
কিন্তু শ্রাবণ আর তা চাইনি। অন্তি থেকে দূরেই যেতে চাইছে। প্রচন্ড ভালোবাসার পর যখন তার চোখে অবহেলা অনাদর অযত্ন দেখে তখন পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ ভাগ্য মনে হয় নিজের ভাগ্যকে।
অন্তি তো কোনো কমতি রাখে নি ভালোবাসায় তাও কেন শ্রাবণ দূরে চলে গেল অন্য মেয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে গেল। এসব কিছুর উত্তর জানা নেই অন্তির।
জীবনের একটা নিকষ কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে তাই শুকরিয়া। এখন শুধু মাত্র সামনের দিকে এগিয়ে চলতে হবে। পিছনের সব স্মৃতি ছুড়ে ফেলে দিতে হবে তার সন্তানদের দিকে তাকিয়ে।
দুটো সন্তান আছে অন্তির। আজ থেকে শুধুমাত্র অন্তির পরিচয়ে বড় হবে অন্তর আর শ্রাবন্তী। দুইজনকে নিয়েই অন্তি তার সাজানো সংসার গড়ে তুলবে। কিছুটা দেরি হবে কিন্তু করতেই হবে।
অন্তর এবার ক্লাস ওয়ান এ। শ্রাবন্তী এখন ও ছোট। ৩ বছর বয়স। অন্তর সব না বুঝলেও এতটুকু বুঝছে বাবার সাথে থাকা হবে না । এইটুকু বয়সে কি বা আর বুঝবে।
মাকে কয়েকবার জিজ্ঞেস করছে সব গুছিয়ে কেন চলে আসছে। বাবার কাছে কি যাবে না। বাবা কি একা থাকবে তাদের ছাড়া। তার ছোট্ট মনে হাজারো প্রশ্ন। কোনো উত্তর দিতে পারে নি অন্তি।
এতটুকু বলেছে বাবা একা ভালো থাকবে আমরা থাকলে সেটা পারবে না। অন্তর কি বুঝেছে কে জানে। চুপ করে শুনলো। আর কিছুই জিজ্ঞেস করলো না। আলাদা বাসা নিয়েছে অন্তি। তার মা বাবা অনেক বার বলেছে তাদের বাসায় থাকতে। অন্তি রাজি হয় নি কারো বোঝা হয়ে থাকতে।
মা বাবা নিশ্চয় বোঝা ভাবতো না । তবুও আশেপাশের মানুষ প্রতিনিয়ত অনেক প্রশ্ন করবে যা শুনতে খুব খারাপ লাগবে নিজের এবং মা বাবার কাছে। যার সমস্যা তার থেকেও আশেপাশের লোকজনের বেশি সমস্যা মনে হয়।
এসব ভেবেই আলাদা বাসা নেয়। আস্তে আস্তে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছে। এখন বাবা থেকে টাকা নিলেও সন্তানের পড়াশোনা এবং নিজের চলার জন্য নেবে না। জব করবে কষ্ট করে হলেও নিজেদের খরচ নিজে বহন করবে। সারাজীবন বাবা তার পিছনে পড়াশোনা সহ অনেক খরচ করেছে। এখনো কি আর নেয়া যায়?
মা বাবা তো বলবে তাদের কথা। একমাস পর অন্তি একটা জব পেল। মোটামুটি ভালোই। অন্তর শ্রাবন্তী কে নিয়ে অতটা উচ্চাভিলাসী ভাবে চলতে না পারলেও খুব বেশি একটা কষ্টে যাবে না।
জব করতে কষ্ট হয়ে গেছে অন্তির। শ্রাবন্তী ছোট একা বাসায় তো রেখে যাওয়া যাবে না। পরিচিত একজন মেয়ে রাখছে শ্রাবন্তী অন্তরকে দিনে দেখাশোনা করার জন্য। অন্তি অফিসে যাওয়ার সময় অন্তরকে স্কুলে দিয়ে যায়। আসার সময় অন্য সহপাঠীদের অভিভাবকদের সাথে চলে আসে।
প্রায় অনেকেই জানে অন্তরের বাবা মা আলাদা থাকে। এ নিয়ে কেউ কখনো কটাক্ষ বা ছোট করে কোনো কথা বলে নি অন্তিকে। সবসময় অন্তর এর দিকে খেয়াল রাখে তারা।
অফিসে যতক্ষন থাকে খুব চিন্তিত থাকে সন্তানদের নিয়ে। মা এমনই হয়। নিজে কতটা কষ্ট করে সন্তানদের একটুকু ও বুঝতে দেয় না। অন্তি রাতে বাসায় এসে অন্তরকে কিছুক্ষণ পড়াতে বসে এরপর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে খেতে বসে। পরম যত্ন করে খাওয়াই তাদের। অনেক গল্প করে। সারাদিন কে কি করছে। শ্রাবন্তী অন্তরকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে এরপর ঘুমাই অন্তি। দুই সন্তানকে দুই পাশে দিয়ে মাঝে ঘুমাই অন্তি। মা কে ছাড়া কেউ ঘুমাতে চাই না। এজন্যই সন্তানের জন্য মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
নিজের সমস্ত ভালো লাগা খারাপ লাগা বিসর্জন দিয়ে দেয় সন্তানকে খুশি রাখার জন্য। এতটা নিঃস্বার্থ ভাবে কেউই ভালোবাসতে পারে না কখনো। যেখানে বাবা নিজ সন্তানদের দূরে সরিয়ে রঙিন দুনিয়ার খেলায় মত্ত। আর মা দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে সন্তানদের সুখে রাখার জন্য। মায়ের সাথে কখনোই কারো তুলনা করা সম্ভব নয়। অনেক সময় দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের নিস্তব্ধতা শ্রাবণের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ভালোবাসলে তাকে সারাজীবনের জন্য মন থেকে মুছে ফেলা যায় না। এতটা বছর একসাথে থেকেছে কতো ভালোবাসা ছিলো। চাইলেই কি আর সব ভুলে যাওয়া যায়। একাকী হলে পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। অনেক রাতেই শ্রাবণের কথা ভেবে টুপটুপ করে গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। তাড়াতাড়ি চোখ মুছে ফেলে কার জন্য সে কাঁদছে? একটা বেইমানের জন্য কষ্ট পাওয়া অন্যায়।
রাত শেষে দিনের আলোয় সুখি হয়ে যায় অন্তি। অন্তিকে কেউ দেখে বুঝবে না তার ভেতরে এতটা কষ্ট লুকনো। খুব বেশি হাসি খুশি থাকে। সন্তানদের নিয়ে ভালো থাকার জন্যই তাদের মূখে হাসি ধরে রাখার জন্য অন্তিকে ভালো থাকতে হবে। সবার মতো অন্তর আর শ্রাবন্তী তো বাবার আদর পায়নি। তাদের ভালো রাখার জন্য অন্তির ভালো থাকতে হবে ।মা ভেঙ্গে পড়লে সন্তান কি ভালো থাকতে পারবে।কে ভালো রাখবে তাদের???
অন্তি ছাড়া তো কেউ নেই। এসব ভেবেই দিন দিন অন্তি নিজেকে শক্ত করে তুলছে। অন্তর আর শ্রাবন্তীর দিকে তাকালে কোনো কষ্ট আছে বলে মনে হয় না অন্তির। শ্রাবন্তী বড় হচ্ছে। তাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। এতদিন না বুঝলেও এখন শ্রাবন্তী বুঝতে পারছে সবার বাবা থাকে। অনেক আদর করে । কিন্তু তার বাবা নেই কেন। স্কুলে প্রায় দেখে অনেকের বাবা আসে । তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে ভাবে আচ্ছা আমার মা তো আছে বাবা কোথায়???
সবার মা বাবা দুইজন থাকে আমার একজন কেন???
আজ মা অফিস থেকে আসলে মা কে জিজ্ঞেস করবে সে। রাতে অন্তি বাড়ি ফিরলো। অন্যদিনের মতো অন্তর আর শ্রাবন্তী কে নিয়ে পড়তে বসলো। শ্রাবন্তী অপেক্ষায় ছিলো কখন মা আসবে আর জিজ্ঞেস করবে।
শ্রাবন্তী- মা, আমাদের বাবা কোথায়? ( শ্রাবন্তীর হঠাৎ এই প্রশ্নের উত্তর কি দিবে তাই বুঝতে পারছে না অন্তি। তাদের বাবা তাদের ছেড়ে চলে গেছে বলবে? নাকি বলবে তাদের বাবা নেই মারা গেছে। জীবিত মানুষকে মৃত বানাতে খারাপ লাগছে। আবার বাবা থেকেও তাদের কাছে নেই বুঝলে অনেক কষ্ট পাবে এই ছোট্ট মনে। যাই হোক সত্যিটা বলা উচিৎ। সত্যি জানার অধিকার আছে সন্তানদের। তাই বলেই ফেললো ) অন্তি-তোমাদের বাবা দূরে থাকে। সে আমাদের সাথে থাকবে না। তাই আমরা চলে এসেছি। কেউ আদর না করলে তুমি কি তার কাছে যাবে?
– শ্রাবন্তী- না
সবার বাবা তো অনেক আদর করে । আমার বাবা করবে না কেনো মা? অন্তি-তোমার বাবা পঁচা তাই। বাবা কেন লাগবে মামুনি, মা তোমাদের কম আদর করি?
-শ্রাবন্তী-না
মা তুমি আমাকে এত্তগুলা আদর করো। পঁচা বাবা আমার লাগবে না। আমার মা অনেকগুলো ভালো। অন্তির গালে, কপালে চুমু খেল শ্রাবন্তী। অন্তি ও আদর করে দিল। অন্তর বুঝে অনেকটা এখন বাবা তাদের চাই না । তাই মা কে এ নিয়ে প্রশ্ন করে নি।
অন্তি কখনো সন্তানদের কোনো চাহিদা অপূর্ণ রাখে নি । নিজের শখ, আনন্দ সমস্ত ভালো লাগা সন্তানদের জন্য বিনা বাক্যব্যয়ে বিসর্জন দিয়ে চলেছে। আস্তে আস্তে অন্তর আর শ্রাবন্তী বড় হচ্ছে। অনেক কিছুই বুঝতে পারে এখন।
মায়ের সংগ্রাম। তাদের জন্য কতটা কষ্ট করছে মা। কখনো তাদের কিচ্ছু বুঝতে দেয় না। শত কষ্টে থাকলেও কি সুন্দর ভাবে তাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলে। কখনো অন্তর আর শ্রাবন্তী কে খুব বকাঝকা বা মারছে বলে মনে হয় না। অন্তর, শ্রাবন্তীর কাছে তাদের মা পৃথিবীর সেরা মা।
অন্তর এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে। অন্তর থেকে বেশি খুশি মনে হচ্ছে অন্তির । সন্তানের ভালোতে মায়ের মন সত্যিই খুব বেশি আনন্দিত হয়। অন্তরের ইচ্ছা কোনো একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করবে। এরপর কোচিং সেন্টার খুলবে একটা। মা কে সংসারের দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেবে ।
পরিকল্পনা মাফিক অন্তর এগোচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পেয়ে গেলো। মায়ের সব আশা পূরণ করতে পেরেছে অন্তর। অন্তির কোনো দুঃখ নেই আর । তার সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। শ্রাবন্তী ও পড়াশোনায় ভালো। দুই সন্তানকে মানুষের মতো গড়ে তুলতে পেরেছে অন্তি। পিছনের অতীতের কথা চিন্তা করলে এখন আর কষ্ট হয় না হাসি পায় শুধু।
অন্তর কোচিং সেন্টার খুলেছে। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলো। ওই এলাকায় সবাই তাকে এখন ভালো শিক্ষক হিসেবে চিনে। এখন আর মাকে কোনো কিছু করতে দেই না। মা বোনের সবকিছু অন্তর খেয়াল রাখে। আর কত করবে মা!! সারাটা জীবন আমাদের জন্য অনেক খেটেছেন। মানুষের কোনো কথায় কান না দিয়ে আমাদের কথা ভেবেছেন শুধু। চাইলে তো মা ও পারতো বাবার মতো আমাদের ফেলে রেখে চলে যেতে । অন্যকারো সাথে সুখে থাকতে। এতটা পথ কষ্ট করে একা পাড়ি দিয়েছে শুধু আমাদের দুই ভাই বোনদের জন্য। মা বাবা দুইজনের স্নেহ সমানভাবে দিয়েছে মা। কখনো আমরা বুঝতে পারি নি আমারা বাবার আদর থেকে বঞ্ছিত। এতটা যত্ন করে আমাদের পালন করেছে। এসব ভাবছে অন্তর।
মা কে আর কষ্ট করতে দিবে না। যতটা সম্ভব খুশি রাখবে। মায়ের মতো যত্ন করা সম্ভব না হলেও কোনো কমতি রাখবে না। অন্তির এখন কোনো আফসোস নেই আর। যেমনটা গড়ে তুলতে চেয়েছেন ঠিক তেমন ভাবেই গড়ে তুলতে পেরেছেন। সেদিনের বিচ্ছেদ না হলে এতটা সুন্দর হতো না সব।
ভীষণ অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে এক কোণে পড়ে থাকা ছাড়া কিছুই হতো না। তার সন্তানরা ও অমানুষ হয়ে যেত এসব দেখে।
বাবা মায়ের খারাপ সম্পর্ক সন্তানদের উপর খুব নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আজ ও মনে হচ্ছে ভালোবাসাহীন সম্পর্কে বিচ্ছেদই উত্তম। মা কে ভালো রাখতে অন্তর আর শ্রাবন্তী কোনো ত্রুটি করে না। সবার কাছে তাদের মা কে নিয়ে গর্ব করে। মা কে সুখে রাখার জন্য দুই ভাই বোনের হাজার পরিকল্পনা।
জীবনের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিতে ব্যস্ত এখন অন্তির সন্তানরা। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে অন্তি সার্থক।

Comments
Post a Comment